Home / সারাদেশ / খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন ফেরত দিলেন হাইকোর্ট

খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন ফেরত দিলেন হাইকোর্ট

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জামিন চেয়ে দ্বিতীয় দফায় করা আবেদন তাঁর আইনজীবীদের কাছে ফেরত দিয়েছেন হাইকোর্ট।
বুধবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি ফরিদ আহমেদ ও বিচারপতি এএসএম আবদুল মোবিনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের অবকাশকালীন বেঞ্চ আবেদনটি ফেরত দেন।

একইসঙ্গে আদালত খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের সিনিয়র বিচারপতির নেতৃত্বাধীন কোনও বেঞ্চে জামিন আবেদনটি উত্থাপনের পরামর্শ দেন।
বেগম জিয়ার আইনজীবীদের উদ্দেশ্যে আদালত বলেন, ‘যেহেতু বিষয়টি এর আগে হাইকোর্টের একটি জ্যেষ্ঠ বেঞ্চে শুনানি হয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে সেহেতু বিষয়টি এখন আপিল বিভাগে নিয়ে যেতে পারেন।’

এদিন আদালতে বেগম জিয়ার পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন এবং দুদকের পক্ষে ছিলেন খুরশীদ আলম খান।
গত ৩১ জুলাই এ মামলায় খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনটি বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ সরাসরি খারিজ করে দেন। পরে ৩ সেপ্টেম্বর আবারও জামিন চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেন বেগম জিয়ার আইনজীবীরা।
গত ৮ সেপ্টেম্বর একই বেঞ্চে জামিন আবেদনটি উপস্থাপন করা হলে তা গ্রহণ করে কার্যতালিকায় রাখার আদেশ দেন আদালত। ওই আদেশের ধারাবাহিকতায় আবেদনটি ১১ সেপ্টেম্বরের কার্যতালিকায় আসে।
এ ব্যাপারে দুদকের আইনজীবী খুরশীদ অলম খান সাংবাদিকের বলেন, ‘ইতোপূর্বে যে বেঞ্চ জামিন আবেদনটি খারিজ করেন, সেই বেঞ্চ বর্তমান বেঞ্চের চেয়েও জ্যেষ্ঠ বিচারপতির নেতৃত্বাধীন ছিল। এ কারণেই আজ আদালত জামিন আবেদনটি কার্যতালিকা থেকে বাদ দিয়েছেন।’

এর আগে গত ৩০ এপ্রিল চ্যারিটেবল মামলায় নিম্ন আদালতের দেয়া সাজার বিরুদ্ধে বেগম জিয়ার খালাস চেয়ে করা আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করেন উচ্চ আদালত। সেই সঙ্গে উক্ত মামলায় বিচারিক আদালতের দেয়া অর্থদণ্ড আপিল শুনানিকালে স্থগিত করে মামলার সকল নথি পরবর্তী দুই মাসের মধ্যে আদালতে দাখিলের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২০ জুন হাইকোর্টে এসে পৌঁছায় মামলার নথি।

গত ২৮ জুলাই এ মামলায় জামিন চেয়ে প্রথমবারের মতো আবেদন করেন খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা।
২০১৮ সালের ২৯ অক্টোবর জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ৭ বছরের কারাদণ্ড ও ১০ লাখ টাকার অর্থদণ্ড দেন আদালত। পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডের পরিত্যক্ত কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থাপিত ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক আখতারুজ্জামান এ রায় দেন।

এ ছাড়াও খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, হারিছের ব্যক্তিগত সচিব জিয়াউল ইসলাম মুন্না এবং বিএনপি নেতা সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার ব্যক্তিগত সহকারী সচিব মনিরুল ইসলামকে ৭ বছর করে কারাদণ্ড দেয়া হয়। পাশাপাশি প্রত্যেককে ১০ লাখ টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেয়া হয়।
এ ছাড়া ট্রাস্টের নামে ঢাকা শহরে থাকা ৪২ কাঠা জমি রাষ্ট্রায়ত্ত করার আদেশ দেন আদালত। রায় ঘোষণার সময় খালেদা জিয়া বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) চিকিৎসাধীন ছিলেন।
তবে এ মামলায় হারিছ চৌধুরী পলাতক থাকলেও কারাগারে থাকা অপর দুই আসামি জিয়াউল ও মনিরুলকে রায় ঘোষণাকালে আদালতে হাজির ছিলেন।

এরপর ২০১৮ সালের ১৮ নভেম্বর বিচারিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে জামিন ও খালাস চেয়ে হাইকোর্টে আপিল করেন খালেদা জিয়া।
এদিকে ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়াকে ৫ বছরের কারাদণ্ড ও আর্থিক জরিমানা করা হয়। একইসঙ্গে তার বড় ছেলে তারেক রহমানসহ ৫ আসামিকে ১০ বছরের কারাদণ্ড ও প্রত্যেককে ২ কোটি ১০ লাখ টাকা করে জরিমানা করে রায় ঘোষণা করেন বিচারিক আদালত।

রায় ঘোষণার পরপরই খালেদা জিয়াকে পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে রাখা হয়। ওইদিন থেকেই তিনি কারাভোগ করছেন। বর্তমানে কারাবন্দি হিসেবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাধীন আছেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী।

Check Also

ক্ষমা চাইলেন ছাত্রলীগ সভাপতি রেজোয়ানুল হক চৌধুরী শোভন

ছাত্রলীগের দুই সহ সভাপতির মারামারির ঘটনা মোবাইলে ধারণ করায় সাংবাদিককে লাঞ্ছনা করার ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *