Home / সারাদেশ / আর মাত্র দুই দিন

আর মাত্র দুই দিন

প্রথম দফায় প্রতিবছর অক্টোবর মাসের ২২ দিন দেশের সব নদ-নদীতে ইলিশ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে সরকার। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ইংরেজি সনের ক্ষেত্রে এটি অক্টোবর মাস হলেও বাংলা মূলত আশ্বিন মাস। আশ্বিনের ভরা পূর্ণিমায় ইলিশ ডিম ছাড়ে। পরিপক্ব ইলিশ এ সময় ডিম ছাড়ার জন্য সাগর থেকে দেশের মিঠাপানির নদীতে চলে আসে। মূলত এজন্য স্বাচ্ছন্দ্যে ও বাধাহীনভাবে ইলিশের ডিম ছাড়ার মৌসুমকে গুরুত্ব দিয়ে সরকার ওই সময়ে নদীতে সব ধরনের মাছ শিকারের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে।

আর মাত্র দুই দিন পর নদীতে ইলিশ ধরার জাল ফেলতে পারবেন না জেলেরা। বাজারে গিয়ে চাইলেও কেউ কিনতে পারবেন না ইলিশ। কারণ, আগামী ৯ অক্টোবর থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত ইলিশ ধরা, কেনাবেচা ও সংরক্ষণ নিষিদ্ধ করেছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, আশ্বিনের পূর্ণিমার আগে ও পরের সঠিক সময় নির্ধারণ করা খুবই জটিল বিষয়। আশ্বিনের ভরা পূর্ণিমার বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়ায় অনেক সময় তারিখের হেরফের হয়। এজন্য আগে ইলিশ ধরা সাতদিন বন্ধ থাকলেও পরে তা বাড়িয়ে ১৪ দিন এবং সর্বশেষ ২২ দিন করা হয়েছে। নিষিদ্ধ সময়ে ইলিশ পরিবহন, প্রদর্শন, গুদামজাতকরণ ও বাজারে বিক্রি করা যাবে না। করলে তা দণ্ডনীয় অপরাধ। এ সময় মৎস্য মন্ত্রণালয়, কোস্টগার্ড ও জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নদীতে অভিযান পরিচালনাসহ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এই সময় সাগর থেকে ইলিশ ডিম ছাড়ার জন্য নদীতে আসে। যদিও ইলিশ সারাবছরই ডিম ছেড়ে থাকে। তবে উল্লিখিত সময়ে ৮০ শতাংশ মা ইলিশ মিঠা পানিতে ডিম ছাড়ে। আর তাই আশ্বিনের পূর্ণিমার চার দিন আগে এবং পূর্ণিমার পরে ১৮ দিন, এই ২২ দিন দেশের উপকূলীয় অঞ্চল, নদীর মোহনাসহ যেসব জেলার নদীতে ইলিশ পাওয়া যায়, সেসব স্থানে মাছ ধরা নিষিদ্ধ থাকবে। বিশেষ করে ইলিশের অভয়ারণ্যগুলোতে এই নিষেধাজ্ঞা কড়াকড়িভাবে বহাল থাকবে।

এদিকে, ইলিশের জন্য মোট ছয়টি অভয়াশ্রম ঘোষণা করেছে সরকার। এগুলো হচ্ছে—ভোলার চর ইলিশার মদনপুর থেকে চরপিয়াল পর্যন্ত মেঘনা নদীর ৯০ কিলোমিটার, ভোলার ভেদুরিয়া থেকে চররুস্তম পর্যন্ত তেঁতুলিয়া নদীর ১০০ কিলোমিটার, পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় আন্ধারমানিক নদীর ৪০ কিলোমিটার, চাঁদপুরের ষাটনল থেকে চর আলেকজান্ডার পর্যন্ত মেঘনার ১০০ কিলোমিটার, শরীয়তপুরের নড়িয়া থেকে ভেদরগঞ্জ পর্যন্ত পদ্মার ২০ কিলোমিটার, বরিশাল সদরের কালাবদর নদীর হবিনগর পয়েন্ট থেকে মেহেন্দীগঞ্জের বামনীরচর পয়েন্ট পর্যন্ত ১৩ কিলোমিটার, মেহেন্দীগঞ্জের গজারিয়া নদীর হাটপয়েন্ট থেকে হিজলা লঞ্চঘাট পর্যন্ত ৩০ কিলোমিটার এবং হিজলায় মেঘনার মৌলভীরহাট পয়েন্ট থেকে মেহেন্দীগঞ্জ সংলগ্ন মেঘনার দক্ষিণ-পশ্চিম জাঙ্গালিয়া পয়েন্ট পর্যন্ত ২৬ কিলোমিটার। এছাড়া, আড়িয়াল খাঁ, নয়নভাঙগুলী ও কীর্তনখোলা নদীর আংশিক অভয়াশ্রমের অন্তর্ভুক্ত। বরিশালের আশপাশের ৮২ কিলোমিটার নদীপথ নিয়ে নতুন অভায়শ্রম ঘোষণা করেছে সরকার। এই ছয়টি অভয়াশ্রমের বাইরে দেশের উল্লেখযোগ্য নদীতে এ সময় কেবল ইলিশের ডিম ছাড়ার জন্য মাছ ধরা বন্ধ থাকবে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আশরাফ আলী খান খসরু জানান, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কেউ ইলিশ ধরার চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ সময় কোস্টগার্ডসহ নদীর তীরবর্তী জেলা প্রশাসন নদীগুলো কঠোর মনিটরিং করবে। এছাড়া, মোবাইল কোর্টও পরিচালনা করবে জেলা প্রশাসন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘নিষেধাজ্ঞার কারণে জেলেরা যতদিন মাছ ধরতে সাগরে যেতে পারছেন না, ততদিন সরকারের পক্ষ থেকে তাদেরকে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। এ সময় তিন লাখ ৯৫ হাজার ৭০৯ জন কার্ডধারী জেলে প্রত্যেকে ২০ কেজি করে চাল পাবেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের জিডিপিতে ইলিশের অবদান এক শতাংশ। গত কয়েকবছর যাবৎ বছরে পাঁচ লাখ টনের বেশি ইলিশ উৎপাদন করার বিষযটি অব্যাহত রয়েছে। উৎপাদনের এ পরিমাণ আরও বাড়াতে চাই। ইলিশ জাতীয় মাছ। বরাবরের মতো এবারও ইলিশের প্রজনন যাতে বাড়ে এবং সবাই যেন ইলিশ খেতে পারে, সেজন্য ডিম ছাড়ার সময় ইলিশ ধরা বন্ধ রাখা হবে।’

উল্লেখ্য, দেশের মাছের বাজারগুলো বর্তমানে ইলিশে ছেয়ে গেছে। দেশের প্রতিটি বাজার এখন ছোটবড় ইলিশে ভরপুর। এবার এক কেজির বেশি ওজনের ইলিশ প্রচুর ধরা পড়ছে। গত কয়েক বছরের তুলনায় এবছর ইলিশ দামেও সস্তা।

Check Also

গত দশ বছরে দেশে শুধু লুট আর হরিলুট হয়েছে

গত দশ বছরে দেশের নিচেরতলা থেকে শুরু করে উপরতলা পর্যন্ত শুধু লুট, লুট আর হরিলুট …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *